Type Here to Get Search Results !

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত জীবিনী| Biography of Sachindranath Sengupta

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত জীবিনী| Biography of Sachindranath Sengupta.

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর জীবিনী|Biography of Sachindranath Sengupta.  

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।পিতার নাম ছিল সত্যচরণ সেনগুপ্ত৷ Sachindranath Sengupta  Biography| Biography Sachindranath Sengupta| Sachindranath Sengupta.

প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী: আজ আমরা আলোচনা করবো শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর জীবিনী| Biography of Sachindranath Sengupta-নিয়ে। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর জন্ম ও মৃত্যু বংশপরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর নাট্যকার জীবন ও তার উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থ নিয়ে। তাঁর পেশা ও তাঁর ঐতিহাসিক নাটক কি  ছিলো। 

আজ আমাদের Biography নিয়ে লেখা এই পোস্টি অবশ্য আপনাদের সকলের পছন্দ ও ভালোলাগবে এবং সকলের অল্প নলেজ সংগ্রহ হবে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সতর্কে থাকবেন আর আমাদের এই ব্লগ পোস্টি অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং পাশের নীল-ঘন্টা টি প্রেস করে আমাদের এই ব্লগ টিকে subscribe করবেন। ধ্যনবাদ।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর জীবিনী | Biography of Sachindranath Sengupta.  

জন্ম ও শৈশব:

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পিতার নাম:পিতার নাম ছিল সত্যচরণ সেনগুপ্ত৷ 
কর্মজীবন: প্রথম জীবনে সাংবাদিকতাই ছিল তাঁর পেশা। হিতবাদী, বিজলি, আত্মশক্তি, নবশক্তি, বৈকালী, নটরাজ, ঘরে বাইরে, কৃষক, ভারত প্রভৃতি পত্রপত্রিকার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
নাটককার-জীবন: ‘ঝড়ের রাতে’, ‘সতীতীর্থ, ‘জননী’, ‘দশের দাবী’, ‘আবুল হাসান’, ‘বাংলার দুলাল', ‘নরদেবতা’, ‘প্রলয়’, ‘স্বামী-স্ত্রী’, ‘কালের দাবী’, ‘সিরাজদ্দৌলা’ 
উল্লেখযােগ্য রচনা:তাঁর ঐতিহাসিক নাটক সিরাজুদ্দৌলা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৪৬ সালে কলকাতার রঙ্গমঞ্চে অভিনীত রাষ্ট্রবিপ্লব নাটকটিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
জীবনাবসান: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ৫ মার্চ এই বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্বের প্রয়াণ ঘটে।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর জীবিনী|Biography of Sachindranath Sengupta.

বিশিষ্ট নাটককার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তিনি যত্ন করে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও অধ্যয়ন করেছিলেন এবং কটক থেকে কলকাতায় ফিরে কবিরাজি ব্যাবসা শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।প্রথম জীবনে সাংবাদিকতাই ছিল তাঁর পেশা। হিতবাদী, বিজলি, আত্মশক্তি, নবশক্তি, বৈকালী, নটরাজ, ঘরে বাইরে, কৃষক, ভারত প্রভৃতি পত্রপত্রিকার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে যেখানে সরস্বতী প্রেস, একসময় সেই বাড়িই ছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ও সুভাষচন্দ্রের কর্মকেন্দ্র।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর জন্মকথা :

বাংলা পেশাদারি থিয়েটার ও গণনাট্য সংঘের বিশিষ্ট নাটককার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল সত্যচরণ সেনগুপ্ত৷ ছাত্রাবস্থায় তিনি স্বদেশি আন্দোলনে ছাত্রদের অংশগ্রহণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রংপুর জেলা স্কুল পরিত্যাগ করে জাতীয় বিদ্যালয়ে ভরতি হন। সেখান থেকে সসম্মানে  প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করে, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ পরিচালিত কলেজে বিএ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কলকাতায় চলে আসেন। 

ছাত্রজীবনে শচীন্দ্রনাথ অধ্যাপকরূপে পেয়েছিলেন সখারাম দেউস্কর, অতুলচন্দ্র গুপ্ত, রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্ট বিদ্বজ্জনকে। পরে কলকাতার আরজিকর মেডিকেল স্কুলে পড়তে যান। সেখানে তিনি দু-তিন বছর পড়াশোনা করেন। তারপর কটকে যান মেডিকেল স্কুলে পড়তে কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টে নাম থাকার জন্য আর পরীক্ষায় বসতে পারেননি। শচীন্দ্রনাথ ছিলেন রাজবংশের সন্তান। তিনি যত্ন করে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও অধ্যয়ন করেছিলেন এবং কটক থেকে কলকাতায় ফিরে কবিরাজি ব্যাবসা শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর কর্মজীবন:

প্রথম জীবনে সাংবাদিকতাই ছিল তাঁর পেশা। হিতবাদী, বিজলি, আত্মশক্তি, নবশক্তি, বৈকালী, নটরাজ, ঘরে বাইরে, কৃষক, ভারত প্রভৃতি পত্রপত্রিকার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে যেখানে সরস্বতী প্রেস, একসময় সেই বাড়িই ছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ও সুভাষচন্দ্রের কর্মকেন্দ্র। এখান থেকেই ইংরেজি দৈনিক ফরওয়ার্ড, বাংলা দৈনিক বাংলার কথা এবং শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত সম্পাদিত সাপ্তাহিক নবশক্তি প্রকাশিত হত। তিনি যখন সাংবাদিকতার জগৎ ত্যাগ করে নাট্যজগতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর উপার্জন একেবারে নেই বললেই চলে। হাতিবাগান বাজারের ওপর একটি ছোটো ঘর নিয়ে, পাইস হোটেলে খেয়ে অতিকষ্টে তিনি জীবনযাপন করতেন।

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐক্যের বাণী তাঁর নাটকের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাঁর ইতিহাসচেতনা, দেশপ্রেম এবং রাজনৈতিক দক্ষতার ভিত্তিতে রচিত নাটকের জন্য তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে স্মরণীয় হয়ে আছেন। সাংবাদিকতার সূত্রে তিনি অনেক ঘটনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। যেগুলি তাঁর নাট্য রচনায় রসদ যুগিয়েছে। বৃহত্তর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবেই তিনি নাট্য-আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। 

নাটককে হাতিয়ার করে মানুষকে সচেতন করতে চেয়েছেন। ফলে তাঁর সামাজিক নাটকগুলিতে উঠে এসেছে - মাতৃত্বের সমস্যা, নারী-পুরুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের দ্বন্দ্ব, নারীস্বাধীনতার সুস্পষ্ট রূপ, সমাজ জীবনের নানা ভাঙন, ভণ্ড দেশপ্রেম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সার্বিক অবক্ষয় ইত্যাদি দিকগুলি। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটকের মূল প্রতিপাদ্য দেশাত্মবোধ। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মিলনের বাণী তাঁর নাটকের অপর বৈশিষ্ট্য। 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর নাটককার-জীবন:

তাঁর নাটককার-জীবন ছিল বেশ দীর্ঘ। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত নাটক লিখে গিয়েছেন। নাটককাররূপে তিনি ‘মনোমোহন নাট্যনিকেতন’, ‘নবনাট্য মন্দির’, ‘রূপমহল’, ‘রংমহল’, ‘স্টার’, ‘নাট্যভারতী’ (নামটি তাঁরই দেওয়া), ‘মিনার্ভা’ ইত্যাদি নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রথম নাটক 'রক্তের ঢেউ'। এটি তিনি অহীদ চৌধুরীর উৎসাহে লেখেন। তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক নটরাজ পত্রিকায় সেটি ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ওই বছরই মনোমোহন থিয়েটারে তাঁর লেখা নাটকটি ‘রক্তকমল' নামে মঞ্চস্থ হয়। মাত্র সওয়া দু-ঘণ্টার এই নাটকে পাঁচটি দৃশ্য ও পাঁচটি সেট ছিল। সেকালে দাঁড়িয়ে এই স্বল্পায়তন ও আড়ম্বরহীন নাট দর্শকসমাজের প্রীতি আকর্ষণ করতে পারেনি। তাঁর দ্বিতীয় নাটক 'গৈরিক পতাকা' (১৯৩০) থেকেই তিনি ক্রমশ বাংলা নাটকের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটকগুলি হলো: গৈরিক পতাকা (১৯৩০), দেশের দাবি  (১৯৩৪), রাষ্ট্রবিপ্লব (১৯৪৪), সিরাজুদ্দৌলা (১৯৩৮), ধাত্রীপান্না (১৯৪৮), সবার উপরে মানুষ সত্য (১৯৫৭), আর্তনাদ ও জয়নাদ (১৯৬১)। 

তাঁর ঐতিহাসিক নাটক সিরাজুদ্দৌলা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৪৬ সালে কলকাতার রঙ্গমঞ্চে অভিনীত রাষ্ট্রবিপ্লব  নাটকটিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। রক্তকমল (১৯২৯), ঝড়ের রাতে (১৯৩১), নার্সিংহোম (১৯৩৩), স্বামী-স্ত্রী (১৯৩৭), তটিনীর বিচার (১৯৩৯), মাটির মায়া, কাঁটা ও কমল, প্রলয়, জননী প্রভৃতি তাঁর সামাজিক নাটক। এসব নাটকে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের বিচিত্র জটিলতা ও সমস্যা বিধৃত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর রচিত কিশোরদের নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী ও অনুবাদ গ্রন্থ আছে। বেসরকারি সাংস্কৃতিক দলের নেতা হিসেবে তিনি রাশিয়া, নরওয়ে, পোল্যান্ড, চীন, সিংহল প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন। 

তাঁর রচিত অন্য নাটকগুলি হল— ‘ঝড়ের রাতে’, ‘সতীতীর্থ, ‘জননী’, ‘দশের দাবী’, ‘আবুল হাসান’, ‘বাংলার দুলাল', ‘নরদেবতা’, ‘প্রলয়’, ‘স্বামী-স্ত্রী’, ‘কালের দাবী’, ‘সিরাজদ্দৌলা’ ‘তটিনীর বিচার’, ‘সংগ্রাম ও শান্তি’, ‘নার্সিংহোম’, ‘ভারতবর্ষ' ‘হরপার্বতী’, ‘সুপ্রিয়ার কীর্তি’, ‘কাঁটা ও কমল’, ‘মাটির মায়া’, ‘ধাত্রীপান্না’, ‘রাষ্ট্রবিপ্লব’, ‘কামাল আতার্তুক’, ‘মৃত্যুহীন’, ‘প্রাণ', ‘বাংলার প্রতাপ’, ‘এই স্বাধীনতা’, ‘কালো টাকা’, ‘তুষারকণা’, ‘অসুর বিজয়’, ‘অস্তরাগ’, ‘আর্তনাদ ও জয়নাদ’, রাজধানীর রাস্তায়’ ইত্যাদি। 

এ ছাড়াও তিনি অনেকগুলি জনপ্রিয় গল্প- উপন্যাসের নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। সেগুলি হল—‘পথের দাবী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘দেবদাস’, ‘রজনী’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম' ইত্যাদি।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর কৃতিত্ব:

শচীন্দ্রনাথ ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সভাপতির পদ অলংকৃত করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি সংগীত নাটক আকাদেমি, সাহিত্য আকাদেমি ও বিশ্বশান্তি পরিষদের সক্রিয় সদস্যও ছিলেন। বিশ্বশান্তি পরিষদের প্রতিনিধিরূপে তিনি চিন, সোভিয়েত, সুইডেন, হেলসিংকি, কলম্বো ও রুমানিয়া ভ্রমণ করেছিলেন।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর শেষকথা:

১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ৫ মার্চ এই বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্বের প্রয়াণ ঘটে।

আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের` এই “Today GK Quiz, – Current Affairs in Bengali | বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (Like Railway, SSC, PSC, WBPSC, NTPC, Navy, UPSC, School Service all Competitive exams GK in Bengali)” পােস্টটি ভালো ভাবে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এই ভাবেই আমাদের –Today Gk All Exams এর পাশে থাকুন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সমস্ত বিষয়ের যেকোনো প্ৰশ্ন-এর উত্তর জানতে এই আমাদের ওয়েবসাইট টি ফলাে করুন এবং আপনার সাধারণ জ্ঞান ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর ভান্ডারকে বৃদ্ধি করার জন্য অব্যশই ফলাে করতে পারেন, ধন্যবাদ।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.